২০ জনের চোঁখ হারানোর মামলায় দুই জনকে হাইকোর্ট তলব-emtv - দৈনিক একুশে

এইমাত্র পাওয়া খবর

Home Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, 3 July 2018

২০ জনের চোঁখ হারানোর মামলায় দুই জনকে হাইকোর্ট তলব-emtv


একুশে মিডিয়া টিভি:
আদালতের আদেশ অমান্য করায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৯ জুলাই হাজির হয়ে তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ জুলাই) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন শুভাষ চন্দ্র দাস। অন্যদিকে, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমিনুল ইসলাম।
রিটকারী আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোঁখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেনো দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। সেই রুলের জবাব না দেয়ায় তাদের তলব করা হয়েছে।’
অমিত দাস গুপ্ত বলেন, ‘শুরুতে ওই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ওপর আদালতে শুনানি হয়। এ মামলার সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের পক্ষ থেকে রুলের বিষয়ে এ পর্যন্ত আদালতে কোনো জবাব দাখিল করা হয়নি। তাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে আদালত তলব করেন। একই সঙ্গে কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আগামী ৯ জুলাই তাদের হাজিরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গার ‘ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে’ তিনদিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। এদের মধ্যে চারজন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্বজনদের নিয়ে ঢাকায় আসেন।
পরে ইম্প্যাক্টের পক্ষ থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। ৫ মার্চের ওই অস্ত্রোপচারের ফলে তাদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়।’
পরে আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১ এপ্রিল রিট দায়ের করেন। রিটের ওপর শুনানি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেনো দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, ডা. মোহাম্মদ শাহীনসহ মোট ১০ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
আদালত পৃথক এক রুলে চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিনদিনের চক্ষু শিবিরে চক্ষু চিকিৎসায় ২০ জনের চোখ অস্ত্রোপচারে কার্যকর, যথাযথ ও পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণে নিস্ক্রিয়তা কেনো আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চান। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা কেনো গ্রহণ করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। ডেক্স রিপোর্ট।


No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages